না কইলে কিছুই হয় না।
ব্লগ করতে পারি বইলা করি। যারা ব্লগ করে না তারা আলাপ করে। আমি ব্লগ করি। বা ফোরামে লিখি। বা কিছু করি না।
ব্লগে নানাকিসিমের মনের কথা লেখার সুবিধাও আছে, অসুবিধাও আছে। লেখার পর হাল্কা টেনশনে থাকি। আগে ১০ মিনিট পর পর মোবাইলে চেক করতাম। এখন এক-দুই দিনও চলে যায় চেক করা হয় না। কিন্তু লেখাটায় ফেরৎ যাই, মন্তব্য পড়ি।
কিছু লেখা দিয়ে মনে হয়, ধুর শালা, কি দরকার ছিল এইসব কথা কওনের।
তারপর আবার যখন অন্য কিছু লোকের লেখা পড়ি, ধরেন হিমু ভাইয়ের (অন্য অনেকেই আছে, হিমু ভাইয়ের টানা ছয়টা লেখা পড়ায় ওনার কথাই মনে পড়লো
), মনে হয়, শালার, আমার লেখায় যে মাইনষে দয়া কইরা ঢুকে সেটাই তো যথেষ্ট!
কিছু (মতানৈক্যে সব) লেখায় ইনসিকিউরিটি চলে আসে, অহংকার, ভয়-ভীতি, বায়াস, প্রেজুডিস। যতই বলি ভার্চুয়াল জগতে কে কি বললো পাত্তাই দেই না, আসলে দেই। ব্যাপক দেই।
এ কারণে আর চিত্ত যেথা ভয়শূন্যও হয় না। মনের গভীরের কথা কইতে পারি না। ঢর লাগে। হুদা গালি খাইতে ইচ্ছা করে না (মানে, গালিটা হুদা না, যিনি দিসেন তার দৃষ্টিভঙ্গী থিকা ঠিকই আছে, আমি কাউরে না বললে গালিটা খাইতাম না আর কি, সেদিক দিয়ে হুদা)। এর উল্টা আছে প্রশংসা। যতই বলি ফুলি না, আসলে ভালই লাগে কিন্তু প্রশংসা খাইতে! ![]()
সমস্যা হইলো, সবই niche। বাংলা ব্লগ লিখে/পড়ে কয়জন? পৃথিবীতে আনন্দের জন্য বইই পড়ে ৩০%। এর মধ্যে বেশিরভাগ বছরে দুইখান বই কিনে দুই ছুটিতে। বাকিরা এত লাখ লাখ বই পড়ে।
তাই বলে এগুলির গুরুত্ব নাই তা না। ব্লগ অবশ্যই মতামত গঠন করতে পারে, যাদের দরকার তাদের। তাছাড়া, আমার নিজেরও লাভ ব্যাপক; নিজের শক্তি/সীমাবদ্ধতা অনেকটাই বের হয়ে আসে। সেই বিস্তারিত এখন দিতে ইচ্ছা/সাহস করছে না আপাতত।
ব্লগিং সম্পর্কে আমার চেনাজানা অনেকেরই কথা - কি লাভ হুদাই এসব অচেনা লোকের গাল খাইয়া? আমি নিটশা মারি: "The surest way to corrupt a youth is to instruct him to hold in higher esteem those who think alike than those who think differently."
এবং মনে রাইখেন, ভাল রকম ডিফারেন্ট। সচলায়তনের পরিবেশ আমার বাসার পরিবেশ থেকে প্রায় উল্টা। জিনিসটা একদিক দিয়ে মজার হইলেও একদিক দিয়ে ব্যাপক কষ্টকর। যেমন ফেসবুক/সিসিবিতে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ব্যাপারটা - আমি মন্তব্য করার আগে খালি আমার বাপের রিঅ্যাকশনের কথা ভাবি। ![]()
এই নিয়াও আপত্তি আছে। আমার বন্ধু আশফাকের মতে, বাপ-মার কথা আনবি কিল্লাই? পরিবারের কথা আনবি কিল্লাই? ও আমার রোজা রাখা সংক্রান্ত লেখাটা পড়ে মহা ক্ষিপ্ত হইসিলো।
ওর কথায় যুক্তি আছে। ব্লগে পুরা জীবন আসে না, খন্ডচিত্র আসে। ব্লগে বার বার বাপের সাথে সচলায়তনের সমষ্টিকভাবে অপছন্দ কিছু জিনিস এসোসিয়েট করাটা বেশ বাজে একটা ব্যাপার। অবশ্যই এখানে পূর্ণ চিত্র তুলে ধরার কোনই সম্ভাবনা নাই। আব্বা নিজে সচলায়তন পড়ে না (আগ্রহ নাই তা না, 'বাংলা নাই')। জিনিসটা অবশ্যই এত সরলসোজাও না।
তবে আমার কথা, আশফাকের উত্তরে, আমার মতামত গঠনে পরিবারের ব্যাপক, বিশাল ভূমিকা আছে। যত যাই বলি, সেটা যদি ব্যাখ্যা না করি, তাহলে বাকিটা বুঝাবো কি করে? আমি তো তাদের দুষছি না। মতামত আমারই।
আমি আদৌ কাউকেই 'দুষি' না। নানা মুনির নানা মত, এবং সেটাই দুনিয়ার মজা। এক সাইডের কোন কিছুই আমার খুব একটা ভাল লাগে না, ডেভিলস এ্যাডভোকেট হওয়ার তীব্র প্রবনতা বিরাজমান।
ইন্টারেস্টিংলি, আমি এ পর্যন্ত কোন ফোরামে ব্যান খাই নাই - কট্টর ইসলামি থেকে শুরু করে সচলায়তন পর্যন্ত। নিজে ক্ষেইপা বের হয়ে গেসি, অতটুকুই।
যাহোক, ফাহিম ভাই আবার 'আমি' আর 'আমার' এর হিসাব শুরু করার আগে কাজে ফেরৎ যাই গা। কেবল বইলা যাই, ব্লগে যা লেখি সবই একেবারে বিশ্বাস করি বলেই লেখা না। সারফেস চিন্তাভাবনা অনেকটাই। লিখতে লিখতে মত ফরমুলেট করার চেষ্টা করি। প্যাসিভ থাকাই যায়, কিছু না লেখাই যায়, তাতে কি মজা? তারচেয়ে ৩০ পৃষ্ঠা গালি খাইলাম না হয় একদিন।
![]()